করোনা মহামারী কাটিয়ে ঢাকার বুদ্ধিজীবিদের প্রাণে এখন আনন্দের জোয়ার

নিজস্ব প্রতিবেদক

কোভিড মহামারীর কারণে ১৮ মাসেরও বেশি সময় লকডাউনের পর বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার কেন্দ্রস্থল জাতীয় চারুকলা ও নাট্যকলা একাডেমিতে ফিরে এসেছে প্রাণের সঞ্চার। এই একাডেমিটি ১৯৭৪ সালে একটি সংসদীয় আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। পারফর্মিং আর্টের কেন্দ্রস্থল হিসেবে এটি কর্মশালা, সেমিনার-সভা এবং স্বল্পমেয়াদী বিশেষ প্রশিক্ষণ কোর্স, মেধাবী শিল্পীদের বৃত্তি এবং আর্থিক সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকে। লকডাউনের পর পূণরায় একাডেমি চালু হওয়ার পরে, বিশেষ করে “গঙ্গা যমুনা সাংস্কৃতিক উৎসব ২৯২১” শুরু হওয়ার কারণে শিল্পী এবং কলাকুশলীরা একাডেমিতে তাদের কাজ পুনরায় শুরু করতে পেরেছেন। এই প্রত্যাবর্তনে তারা তাদের আনন্দ এবং সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।

ঠান্ডু রায়হান, আলো পরিকল্পক:
“একটা পাখি অনেকদিন খাঁচায় বন্দী রাখার পরে যদি পাখিটাকে ছেড়ে দেয়া যায়, তখন সে যেরকম আনন্দ অনুভব করে ঠিক আমাদের নাট্যকর্মীদের মধ্যেও তেমন একটি অনুভূতি কাজ করছে। দীর্ঘদিন করোনার বিপদ কাটিয়ে উঠে এটি আমাদের জন্য অনেক আনন্দের একটি উৎসব। এর মাধ্যমে নাট্যকর্মীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। আনন্দের মধ্য দিয়ে আমরা উৎসবটি পার করছি। এমন সময়ে এ উৎসবটি খুবই প্রয়োজন ছিলো।”

আমানুল হক, পরিচালক, বাংলাদেশ ব্যালে ট্রুপ:
“একটি জাতির পরিচয় বহন করে তার সংস্কৃতি। এর চর্চা একটি জাতিকে উজ্জীবিত করে রাখে। বিগত করোনা মহামারীতে আমাদের সংস্কৃতিচর্চা একেবারেই বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো। করোনা মহামারীর পরে আমরা আবার আমাদের চর্চায় ফিরে এসেছি। এবং এটা আমাদের উজ্জীবিত করছে। সত্যিকার অর্থে আবার আমাদের সেই প্রাণবন্ত সময় ফিরে এসেছে। সাধারণ মানুষ সত্ফূর্তভাবে এই আনন্দে যোগ দিচ্ছে।”

লুৎফর রহমান, রূপসজ্জাকর, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি
“করোনাকালীন সময়ে প্রায় দেড় বছর শিল্পকলা একাডেমি বন্ধ ছিলো। এবং আমরা নাট্যকর্মীরা এখানে না আসতে পেরে অনেক কষ্টে ছিলাম। বহুদিন পরে এখানে এস আবার ভালো লাগছে। আমরা আবার আমাদের চর্চা শুরু করেছি।”

মাহফুজা আক্তার মিরা, সংস্কৃতিকর্মী
“সংস্কৃতিকর্মীসহ সাধারণ মানুষ তাদের দেহে প্রাণ ফিরে পেয়েছে। এটা আমার বিশ্বাস। আমরা এই যে ১ তারিখ থেকে একটা আনন্দে মেতে আছি, সবার সাথে দেখা হচ্ছে, এটা আমাদের জন্য ভীষণ আনন্দের।”

আরিফা সুলতানা, দর্শক
“অনেকদিন পরে করোনা পরবর্তী সময়ে শিল্পকলা একাডেমিতে এসে খুব ভালো লাগছে। আমি আগেও বাচ্চাদের নিয়ে প্রায়ই আসতাম এখানে। মাঝখানে করোনার কারণে দীর্ঘদিন বিরতী ছিলো। এখন এসে পরিবেশটা খুব ভালো লাগছে।”
মাশরুক টিটু, সংস্কৃতিকর্মী
“সাংস্কৃতিক কর্মীদের মধ্যে নতুন করে প্রান সঞ্চার হয়েছে। এই উৎসবে সারাদেশের প্রায় ১৪০ টি সংগঠন নাচ, গান, অভিনয় নিয়ে অংশগ্রহণ করছে। প্রতিদিন ৫টি মঞ্চে সাড়ে তিন হাজার শিল্পী অংশগ্রহণ করছে।”

শর্টলিংকঃ