দ্বিতীয় ম্যাচেও দাপুটে জয় বাংলাদেশের, ৫ উইকেটে হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়াকে

ক্রীড়া প্রতিবেদক

মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে লড়াইটা ভালোই জমেছে স্টার্ক–মোস্তাফিজদের। গতকাল পেস–ঘূর্ণির লড়াইয়ের পর আজ দেখা মিলল পেসারদের সঙ্গে পেসারদের লড়াই। কালকের মতো আজও জয়ের হাসি নিয়ে মাঠ ছেড়েছে মাহমুদউল্লাহর দল। দ্বিতীয় টি–টোয়েন্টি ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ৫ উইকেটে হারিয়ে সিরিজটা ২–০ করে ফেলল বাংলাদেশ।

টস জিতে ব্যাটিং করতে নেমে মোস্তাফিজ–শরিফুলের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ৭ উইকেট ১২১ রানের বেশি করতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। জবাবে ব্যাটিং করতে নেমে ১৮.৪ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ।

১২২ রানের লক্ষ্য ব্যাটিং করতে নেমে শুরু থেকেই স্টার্ক–হ্যাজেলউডের গতির কাছে বাংলাদেশে দুই ওপেনার পরাস্ত হন। ব্যক্তিগত রানের খাতা খোলার আগেই বিদায় নেন ওপেনার সৌম্য সরকার। স্টার্কের ১৪৪ কিলোমিটার গতির সামলাতে গিয়ে অফ স্টাম্প রক্ষা করতে পারেননি সৌম্য। আরেক ওপেনার মোহাম্মদ নাঈমের (৯) পরিণামও তাই। হ্যাজেলউডের ১৪৫ কিলোমিটারের বল সামলাতে পারেননি নাঈম। অফ স্টাম্প উপড়ে ফেলেন হ্যাজেলউড। ২১ রানে নেই ২ উইকেট।

তৃতীয় উইকেট জুটিতে সাকিব আল হাসান ও শেখ মেহেদী হাসান দলকে প্রাথমিক ধাক্কা সামলান। তবে সাকিবকে ফিরিয়ে সেই কাজটায় বাধা দেন অ্যান্ড্রু টাই। ১৭ বলে ২৬ রান করা সাকিব বোল্ড হলে ভাঙে ৩৭ রানের জুটি। অধিনায়ক মাহমুদইল্লাহ রিয়াদ ফিরে যান শূন্য রানে। ৫৯ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশকে আবারও চাপে ফেলে দেয় অস্ট্রেলিয়া।

উইকেটে থিতু হওয়ায় পরও ইনিংসটাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেননি শেখ মেহেদী। দলীয় ৬৭ রানে ২৪ বলে ২৩ রান করে অ্যাডাম জাম্পার বলে স্টাম্পিংয়ের শিকার হন। ওভারপ্রতি রানরেটের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রান তোলায় উইকেট হারিয়েও বাংলাদেশকে খুব বেশি ভুগতে হয়নি।

আফিফ হোসেন ও নুরুল হাসান সোহান দলকে ধীরে ধীরে দলকে জয়ের দিকে এগিয়ে নিয়ে যান। কোনো রকম ঝুঁকি না নিয়ে স্টার্ক–হ্যাজেলউড মোকাবিলা করতে থাকেন তারা। তাদের দায়িত্বশীল ব্যাটিং বাংলাদেশর জয়ের কাজটা সহজ করে দেয়। শেষ পর্যন্ত ৮ বল আর ৫ উইকেট ১২৩ রান তোলে বাংলাদেশ। আফিফ ৩১ বলে ৩৭ ও সোহান ২১ বলে ২২ রানে অপরাজিত থাকেন।

এর আগে টস জিতে ব্যাটিং করতে নামা অস্ট্রেলিয়ার শুরুটা ভালো হয়নি। দলীয় ১৩ রানে অ্যালেক্স ক্যারি (১১) মেহেদী হাসানের বলে মিড অনে নাসুম আহমেদের হাতে ধরা পড়েন। আরেক ওপেনার জশ ফিলিপকে (১০) বোল্ড করেন মোস্তাফিজুর রহমান।

হেনরিকসের পর ইনিংস সর্বোচ্চ ৪৫ করা মার্শকে ফেরান শরিফুল। ইনিংসের শেষ দিকে মোস্তাফিজ আর শরিফুলের বোলিং তোপে ১৮ রানের মধ্যে ম্যাথু ওয়েড (৪), অ্যাস্টন অ্যাগার (০), অ্যাস্টন টার্নারের (৩) উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। শেষ পর্যন্ত স্টার্কের ১০ বলে ১৩ রানে ৭ উইকেটে ১২১ রান তোলে অস্ট্রেলিয়া। মোস্তাফিজ ৩টি, শরিফুল ২টি এবং সাকিব ও মেহেদী ১টি করে উইকেট নেন

শর্টলিংকঃ