নাটোরের উত্তরা গণভবন দর্শনার্থীদের জন্যে উন্মুক্ত

নাটোর প্রতিনিধি:

দেশের অন্যতম দর্শনীয় স্থান নাটোরের উত্তরা গণভবন আজ বৃহস্পতিবার থেকে প্রায় পাঁচ মাস পরে দর্শনার্থীদের জন্যে পুনরায় উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে। সকাল দশটায় জেলা প্রশাসক ও গণভবন ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি শামীম আহমেদ দু’জন দর্শনার্থীর হাতে গণভবনে প্রবেশ টিকেট তুলে দিয়ে এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
এ সময় জেলা প্রশাসক বলেন, মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের নির্দেশনা অনুসরণ করে আজ থেকে উত্তরা গণভবন দর্শনার্থীদের জন্যে উন্মুক্ত করে দেয়া হলো। স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে দর্শনার্থীবৃন্দ গণভবনে অবস্থান করবেন। প্রবেশ দ্বারে মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। রানীভবানী রাজবাড়িসহ জেলার অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্রও একই সাথে দর্শনার্থীদের জন্যে উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে।
উদ্বোধনকালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ আশরাফুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নাদিম সারওয়ারসহ জেলা ও নাটোর সদর উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ।
প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ গণমাধ্যমের সাংবাদিক সহযোগে উত্তরা গণভবনের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখেন। মিনি চিড়িয়াখানার হরিণ কর্ণারে আজ ভোর রাতে নতুন দু’টো হরিণ শাবকের প্রসব হয়েছে বলে জানান কিউরেটর আবুল বাশার। তাৎক্ষণিক ‘সন্ধ্যা’ও ‘মালতি’ নামে এই দু’টো হরিণ শাবকের নাম দেয়া হয়।
পরে জেলা প্রশাসক গণভবনের অভ্যন্তরে পাখির অভয়াশ্রমের পরিত্যক্ত জায়গাতে দুই বিঘা জমির উপরে ঔষধি কর্ণার উদ্বোধন করেন। এই ঔষধি কর্ণারে ৮২ প্রজাতির ঔষধি গাছ রোপন করা হয়েছে ঐসব গাছের নামফলকসহ ঔষধি গুণাগুনের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দিয়ে। মোট ১৬২ প্রজাতির ঔষধি গাছ রোপন করা হবে বলে জানান এই কর্ণার ব্যবস্থপনার দায়িত্বে নিয়োজিত নাটোর সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোছাঃ রনী খাতুন।
নাটোরের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর জুয়েল আহমেদ জানান, প্রতিদিন উত্তরা গণভবনে গড়ে আটশ’ দর্শনার্থী পরিদর্শনে আসেন। প্রতিমাসে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার রাজস্ব পাওয়া যায় টিকেটের বিক্রয় মূল্য থেকে। এসব দর্শনার্থীদের প্রায় ৩০ শতাংশ আবারো নতুন টিকেট কেটে গণভবনের সংগ্রহশালা পরিদর্শন করেন। সকাল নয়টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের প্রবেশাধিকার থাকে।

শর্টলিংকঃ