ফিল্ম ক্লাব সদস্যদের জন্য সানী-মৌসুমীর ঈদ উপহার

বিনোদন ডেস্কঃ

অস্বস্তিতে রয়েছেন মৌসুমী এবং ওমর সানী শিল্পী দম্পতি। কারন, তারা জানেন, একে তো চলচ্চিত্র শিল্প’র এখন সংকট কাল, তার উপর করোনা ভাইরাস বিপর্যয়। সবাই আঁটকে আছে ঘরে। মৌসুমীর উপলব্ধি ভালো নেই চলচ্চিত্র শিল্পের সকল পর্যায়ের মানুষেরা। ওমর সানী বললেন, “তারা ভালো না থাকলে আমরা ভালো থাকি কী করে?” মৌসুমীর কথা, “আমাদের নিজেদের আল্লাহ যা দিয়েছেন, তাতে হাজার শুকরিয়া। কিন্তু আমাদের শিল্পী হিসেবে গড়ে ওঠার পেছনে রয়েছে শত মানুষের অবদান। এই বিপর্যয়ে, সেই সব বিপদে থাকা মানুষের কথা না ভেবে আমি কেমন করে নিজের স্বামী আর সন্তানের মুখে তুলে দেবো ঈদের ভালো খাবার?”

এ সব ভেবেই মনটা ভালো ছিলোনা মৌসুমীর। সানি ব্যাখ্যা করে বললেন, “দর্শকরা আমাদের দেখে। কিন্তু আমরা যখন ক্যামেরার সামনে যাই তখন কত কুশলী কাজ করেন, তা তো কেউ দেখেনা। সেট, লাইট, ক্যামেরা, স্টিল, ড্রেস, মেইক আপ, প্রোডাকশন কর্মী, খাবার সরবরাহকারী, এমন অনেক মানুষের ঘাম জড়িয়ে থাকে আমাদের সাফল্যের পেছনে।” কথার মাঝখানেই বললেন মৌসুমী, “এখানেই শেষ নয়, এডিটিং, ডাবিং, রি রেকর্ডিং, গ্রেডিং, কালার কারেকশন, প্রচার, পোস্টার, প্রিন্টিং, বুকিং এজেন্ট এদের পাশাপাশি রয়েছেন বিনোদন সাংবাদিক, আরও রয়েছেন লেখক। এই বিশাল বলয়ের মানুষ গুলো ছাড়া আমাদের আজকের অবস্থানে পৌছানো সম্ভব হতো না। কিন্তু, এই এত মানুষের ঘরে ঈদের হাসি ফুটিয়ে তোলার সামর্থ তো আমাদের নেই।

ফিল্ম ক্লাব সদস্যদের জন্য সানী-মৌসুমীর ঈদ উপহারবুদ্ধিটা তখন বের করলেন সানী। ফিল্ম ক্লাবে সব পেশার মানুষদের সমন্বয় রয়েছে।

সানী জানালেন, যদিও তাদের অনেকেই বিত্তবান কিন্তু উপায়হীন মানুষের সংখ্যাও অনেক। আবার অনেকেই রয়েছেন বিপর্যস্ত অবস্থায়। সানী আরো বললেন, “ক্লাবের কিছু সদস্যকে ঈদ উপহার পাঠিয়ে আমরা আমাদের মনটা হালকা করতে পারি। আমি মেম্বার এডমিন। সভাপতি অমিত আমার বন্ধু। কমিটির সবার সংগে রয়েছে আমার সুসম্পর্ক। আমার এমন প্রস্তাবে কেউই আপত্তি করবেনা। অমিত শুনেই রাজি। অন্যরাও উৎফুল্ল। শুধু বাধা দিলো আমার স্ত্রী মৌসুমী। তার দাবি, ক্লাবের কোন অর্থ নয়। এই উপহার পুরোটা দেবে সে।”

ফিল্ম ক্লাব সদস্যদের জন্য সানী-মৌসুমীর ঈদ উপহার

উপহার সবার ঘরে পৌছে দেয়াটা সানী ও অমিতের জন্য কস্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্লাবের সব কর্মচারী ছুটিতে, লক ডাউন অবস্থায়। পাওয়া গেল অফিস বিভাগের কর্মকর্তা রিপনকে। রমজান মাস শুরুর সময় ক্লাবের পক্ষ থেকে সদস্যদের বাসায় যে উপহার পাঠানো হয়, তার তত্বাবধানে ছিলো রিপন। আরও ক’জন চেনা মানুষকে ডেকে মৌসুমীর সৌজন্যে শুরু হয়েছে ফিল্ম ক্লাবের ঈদ উপহার পাঠানোর কাজ।

রিপন বললো, “চেস্টা করছি স্যার, সবার বাসায় যত দ্রুত সম্ভব পৌঁছাতে।”

ফিল্ম ক্লাব সদস্যদের জন্য সানী-মৌসুমীর ঈদ উপহারমৌসুমীর সৌজন্যে ফিল্ম ক্লাব লিঃ যে ঈদ উপহার সামগ্রী পাঠিয়েছে বা পাঠাচ্ছে সদস্যদের কাছে তাতে রয়েছে, পোলাও এর চাল, চিনি, তেল, সেমাই, লাস্ছা, গুঁড়ো দুধ। সবই উন্নত মানের যা মৌসুমী তার বাসায় ব্যবহার করে। বুঝে নেয়া যায় উঁচু মানের এই শিল্পী দম্পতির মানসিক স্তরটাও কতটা উচ্চতায়। কেবল চলচ্চিত্র শিল্পেরই নয়, এ দেশের বিভিন্ন শ্রেণীর সামাজিক বলয়েও মৌসুমী এবং সানী উদাহরণ যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হতেই পারেন যে কোন দুর্যোগময় সময়ে।

শর্টলিংকঃ