বাগমারায় লোকালয়ে ফিলিং স্টেশন

রাজশাহী বাগমারা প্রতিনিধিঃ

রাজশাহীর বাগমারার হাট মচমইল এলাকায় লোকালয়ে স্থাপন করা হয়েছে ফিলিং স্টেশন। নিয়মনীতির কোনো তোয়াক্কা না করে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ওই ফিলিং স্টেশনটি স্থাপন করায় এর আশেপাশে বসবাসকারি লোকজন ও ব্যবসায়ীরা অতংকে রয়েছেন বলে উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। এলাকাবাসীর পক্ষে অভিযোগটি করেছেন মাষ্টার আনিছুর রহমান নামে এক ব্যবসায়ী।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শুভডাঙ্গা ইউনিয়নের মচমইল বাজার সংলগ্ন চেয়ারম্যান মোড়টি অত্যন্ত ঘনজনবসতিপূর্ণ একটি এলাকা। সেখানে কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। সরকারি ও বিষ্ফোরক আইনের ধারা অনুযায়ী জনবসতিপূর্ণ এলাকার নির্ধারিত সীমানার মধ্যে কোনো ফিলিং স্টেশন (পেট্রোল পাম্প) স্থাপন করা যাবে না। তাছাড়া কোনো ভবনের মধ্যে ফিলিং স্টেশনে সরবরাহের জন্য ডিজেল কিংবা পেট্রোল সংরক্ষণের রিজার্ভ ট্যাংকি রাখা যাবে না। অথচ সেইসব নিয়মনীতির কোনো তোয়াক্কা না করে কয়েকটি দোকানঘর ও বসতবাড়ী সংলগ্ন ঘনজনবসতিপূর্ণ স্থানে এলাকার প্রভাবশালী সহিদুল ইসলাম সম্প্রতি মেসার্স সোহেল ফিলিং স্টেশন নামে একটি পেট্রোল পাম্প স্থাপন করেন। ওই ফিলিং স্টেশনের সামনে কোনো ফাঁকা জায়গা না থাকায় তেল নিতে আসা গাড়ীগুলো রাস্তার উপর লাইনে দাঁড় করিয়ে রেখে তেল নিতে হয়। এ কারণে মচমইল বাজার বাসস্ট্যান্ড থেকে চেয়ারম্যান মোড় পর্যন্ত ওই রাস্তায় প্রতিদিন ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হওয়ায় পথচারীদের চরম দূর্ভোগ পোহাতে হয়। তাছাড়া ওই ফিলিং স্টেশনের ডিজেল ও পেট্রোল সংরক্ষণের রিজার্ভ ট্যাংকি একটি ভবনের মধ্যে থাকায় যে কোনো সময় অনাকাঙ্খিত দূর্ঘটনার আশংকায় অতংকের মধ্যে রয়েছেন ওই পেট্রোল পাম্প সংলগ্ন বসবাসকারি ১০/১২টি পরিবারের লোকজন ও ব্যবসায়ীরা। কাজেই মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা জনবসতিপূর্ণ এলাকায় স্থাপিত ওই ঝুঁকিপূর্ণ ফিলিং স্টেশনটি দ্রুত বন্ধ করে দেয়া জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানানো হয়েছে।
এ বিষেয়ে মেসার্স সোহেল ফিলিং স্টেশনের মালিক সহিদুল ইসলাম বলেন, সকল নিয়মনীতি মেনে সংশ্লিষ্ট বিষ্ফোরক পরিদপ্তর থেকে লাইসেন্স নিয়েই ফিলিং স্টেশনটি স্থাপন করা হয়েছে।
বাগমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন- বিষ্ফোরক আইনের ধারা অনুযায়ী জনবসতিপূর্ণ কোনো এলাকায় ফিলিং স্টেশন স্থাপনের অনুমোতি পাওয়ার কথা নয়। তবে ওই ফিলিং স্টেশনের লাইসেন্স কিভাবে পেয়েছে তা সংশ্লিষ্ট বিষ্ফোরক পরিদপ্তই বলতে পারবে।
রাজশাহীর বিষ্ফোরক পরিদপ্তরের পরিদর্শক ড. মোহাম্মদ আসাদুল ইসলাম বলেন, কোনো ফিলিং স্টেশন স্থাপনের ক্ষেত্রে প্রথমে সংশ্লিষ্ট কোম্পানী ও পরে জেলা প্রশাসকের অনুমোতি নিতে হয়। এরপরই বিষ্ফোরক পরিদপ্তর থেকে লাইসেন্স দেয়া হয়।
/ সমিত

শর্টলিংকঃ