রাজশাহীর তানোরে সার ডিলারের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

তানোর(রাজশাহী)প্রতিনিধি

রাজশাহীর তানোরে বিসিআইসির এক সার ডিলাদের বিরুদ্ধে সার বিপণন নীতিমালা লঙ্ঘন করে এক এলাকার সার অন্য এলাকায় বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে সংশ্লিষ্ট এলাকার কৃষকের সার পাচ্ছেন না। তালন্দ ইউপির কৃষকের মাঝে সার নিয়ে রিতিমতো হাহাকার দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলার দুটি পৌরসভা ও ৭টি ইউনিয়নের কৃষকের মাঝে নায্যেমুল্য সার বিতরণের জন্য বিসিআইসির মোট ৯ জন ডিলার রয়েছে। তালন্দ ইউনিয়নের (ইউপি) ডিলার মেসার্স সুমন টেড্রার্স, সার বিপণন নীতিমালা অনুযায়ী তালন্দ ইউপির মধ্যবর্তী এলাকায় তার ব্যবসা করার কথা। কিন্ত্ত অজ্ঞাত কারণে দীর্ঘদিন ধরে
তিনি তানোর পৌরসভার তালন্দ বাজারে ব্যবসা করছেন। এতে তালন্দ ইউপির কৃষকেরা সার পাচ্ছে না। ইউপির লসিরামপুর গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম ও শমসের আলী বলেন, তালন্দ ইউপি এলাকায় ডিলার না থাকায় তারা সার নিয়ে মহাবিপাকে পড়েছেন। তারা বলেন, পৌরসভার তালন্দ বাজার থেকে তাদের সার নিয়ে আসতে বস্তা প্রতি ভাড়া লাগে ৫০ থেকে ৭০ টাকা। অথচ এলাকায় ডিলার থাকলে তাদের এই সমস্যায় পড়তে হতো
না।
এদিকে সরেজমিন ২৩ নভেম্বর মঙ্গলবার সকালে তালন্দ বাজারের সুমন টেড্রার্সে দেখা যায়,তানোর পৌর মেয়রের এক ভাই রবিউল ইসলাম রেবুল দাঁড়িয়ে রয়েছে, অপর ভাই সোহেল রানা কৃষকদের চিরকুট দিচ্ছে। কৃষকেরা অভিযোগ করে বলেন,তারা তাদের অনুগত কৃষকদের সার দিচ্ছে, আবার তাদের মনোনিতদের লাইনে দাঁড় করিয়ে বিপুল পরিমাণ সার হাতিয়ে নিলেও সাধারণ কৃষকেরা সার পাচ্ছে না।এনিয়ে সেখানে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।এদিকে গণমাধ্যম কর্মীরা এই খবর সংগ্রহ করতে গেলে রেবুল ও রানা গণমাধ্যম কর্মীদের মাইক্রোফোন ছিনিয়ে নেয়া ও তাদের শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করার চেষ্টা করেন।এবিষয়ে জানতে চাইলে মেসার্স সুমন টেড্রার্সের রতন কুমার বলেন, তারা তালন্দ ইউপির ডিলার সত্য তবে তিনি তো তালন্দ বাজারেই সার বিক্রি করছেন এতে সমস্যা কি। এব্যাপারে রেবুল ও রানা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তারা ডিলারকে সহযোগীতা করছেন মাত্র। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামিমুল ইসলাম বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।তালন্দ ইউপির ডিলার পৌর এলাকায় ব্যবসা করতে পারেন কি না এই প্রশ্নের কোনো সদোত্তর না দিয়ে তিনি কৌশলে এড়িয়ে গেছেন।

শর্টলিংকঃ