রাজশাহী-১আসনে ইউপি ভোট সাংসদ অনুসারীদের হাতে নৌকার হাল

তানোর(রাজশাহী)প্রতিনিধিঃ

রাজশাহী-১ আসনের তানোর-গোদাগাড়ী উপজেলায় আওয়ামী লীগে দলীয় কোন্দল দীর্ঘ দিনের। ইউনিয়ন-ওয়ার্ড পর্যন্ত দলের নেতারাও দুই ভাগে বিভক্ত। একটি অংশ স্থানীয় সাংসদ ওমর ফারুক চৌধুরীর অনুসারী। অপর অংশের নেতৃত্বে আছেন জেলার সাবেক সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদসহ কয়েকজন। এই অবস্থায় গোদাগাড়ীর ৯টি ও তানোরের ৭টি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে সাংসদের অনুসারীরাই নৌকার টিকিট পেয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গোদাগাড়ীতে সাংসদবিরোধী বলয়ে নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন উপজেলা আওয়ামী লীগের দুই নেতা বদরুজ্জামান রবু মিয়া ও বদিউজ্জামান বদি এবং কাঁকনহাট পৌরসভার মেয়র এ কে এম আতাউর রহমান খানসহ আরও কয়েকজন। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন গোদাগাড়ী পৌরসভার প্রয়াত মেয়র মনিরুল ইসলাম বাবু। তাঁরা ‘সেভেন স্টার’ নামে

এলাকায় পরিচিত। এই সেভেন স্টারের অনুসারীদের কেউ ইউপি নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পাননি।

সম্প্রতি, আওয়ামী লীগের সংসদীয় ও স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের যৌথ সভা শেষে ইউপি নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপের মনোনয়ন পাওয়া নেতাদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। এতে গোদাগাড়ী সদর ইউপিতে মাসিদুল গনি, মোহনপুরে খাইরুল ইসলাম, পাকড়ীতে মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন, রিশিকুলে শহিদুল ইসলাম, গোগ্রামে মজিবর রহমান, মাটিকাটায় শহিদুল করিম শিবলী, দেওপাড়ায় বেলাল উদ্দিন সোহেল, বাসুদেবপুরে শফিকুল ইসলাম এবং চর আষাড়িয়াদহে শহীদুল্লাহ মনোনয়ন পেয়েছেন। ওদিকে তানোরের কলমা ইউপিতে মাইনুল ইসলাম স্বপন, কাঁমারগাতে ফজলে রাব্বী ফরহাদ, বাঁধাইড়রে আতাউর রহমান, পাঁচন্দরে আব্দুল মতিন, তালন্দতে আবুল কাশেম, সরনজাইয়ে আব্দুল মালেক ও চাঁন্দুড়িয়াতে মুজিবুর রহমান এরা প্রত্যেকেই সাংসদ ওমর ফারুক চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

গোদাগাড়ীর চর আষাড়িয়াদহে মনোনয়ন পাওয়া শহীদুল্লাহ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে কিছুদিন ধরে তিনি অসুস্থ। যোগাযোগ করা হলে তাঁর ছেলে নাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আব্বু তো মনোনয়ন চাননি। কোথাও বায়োডাটাও জমা দেননি। কয়েক দিন আগেও হাসপাতালে ছিলেন। তিনি কীভাবে মনোনয়ন পেলেন, সেটা আমরাও বুঝতে পারছি না। মনোনয়ন পেলেও তাঁর নির্বাচন করা সম্ভব নয়। আমরা আব্বুর জন্য দোয়া চাই।এলাকায় সাংসদবিরোধী হিসেবে পরিচিত দেওপাড়া ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান আক্তার। জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক এই নেতা দেওপাড়ার চার বারের চেয়ারম্যান। এলাকায় জনপ্রিয়ও। তারপরও তিনি মনোনয়ন পাননি। এখানে মনোনয়ন পেয়েছেন উপজেলা যুবলীগের কোষাধ্যক্ষ বেলাল উদ্দিন সোহেল। চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করবেন বলে বছর দুয়েক ধরে প্রস্তুতি নিয়েছেন তিনি। ইউপি চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান আক্তার বলেন, ‘আমি চারবারের চেয়ারম্যান। গত ১০ বছরে চারবার দেওপাড়া জনসেবায় সারা দেশের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ইউপি হয়েছে। কেউ আমার কোনো অনিয়ম-দুর্নীতি দেখাতে পারবে না। তা-ও মনোনয়ন পেলাম না। কেন্দ্রকে ভুল বুঝিয়েই আমাকে মনোনয়ন বঞ্চিত করা হয়েছে।আখতারুজ্জামান আরও বলেন, ‘শুনেছি, এমপির বাড়িতে বসে তালিকা কাটছাঁট হয়েছে। চেয়ারম্যান থাকাকালে চাল চুরি করে ধরা পড়েছেন, বিচার-সালিস হয়েছে—এমন ব্যক্তিও মনোনয়ন পেয়েছেন। যিনি শারীরিকভাবে অক্ষম তিনিও পেয়েছেন। আমরা পাইনি। তানোরের কাঁমারগা ইউপি চেয়ারম্যান মসলেম উদ্দিন প্রামানিক পর পর দুইবার নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি এখানো কাঁমারগা ইউপিতে সব থেকে বেশী জনপ্রিয় তবে তাকে মনোনয়ন দেয়া হয়নি। মনোনয়ন পেয়েছেন ইউপি আওয়ামী লীগ সভাপতি ফজলে রাব্বী ফরহাদ যিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ ও অনেকটা জনবিচ্ছিন্ন। এবিষয়ে মসলেম উদ্দিন প্রামানিক বলেন, কেন্দ্রে ভুল তথ্য দিয়ে তাকে মনোনয়ন বঞ্চিত করা হয়েছে। এবিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের সাংসদ ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, ‘মনোনয়ন দিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। যাঁদের যোগ্য মনে করেছেন, তিনি তাঁদেরই নৌকা দিয়েছেন।’ ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী আসতে পারে কি না—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ রকম আমার এখনো নলেজে আসেনি। যাঁরা প্রকৃতই আওয়ামী লীগ করেন, তাঁদের এটা থেকে বিরত থাকা উচিত।’ এবিষয়ে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অনিল কুমার সরকার বলেন, ‘আমি করোনায় আক্রান্ত হয়ে পড়ে আছি। কীভাবে তালিকা করা হয়েছে তা বলতে পারব না। তবে যে তালিকা এসেছিল, তাতে আমরা সুপারিশ করেছি।

শর্টলিংকঃ