রামেক হাসপাতাল এখন কুকুরের আবাসঃ দৃষ্টিহীন কর্তৃপক্ষ

নিজেস্ব প্রতিবেদক রাজশাহী

দীর্ঘদিন থেকে নানা অনিয়ম দুর্নীতি ও সেচ্ছাচারিতা নিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম। হাসপাতালের দুর্নীতি ও অনিয়মের তথ্য প্রকাশ বা রিপোর্ট করতে গিয়ে বহুবার সাংবাদিকদের লাঞ্চিত ও মারধরের শিকার হতে হয়েছে। এমনকি হাসপাতালে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়াও সাংবাদিকদের শায়েস্তা করার জন্য বসানো হয়েছে ক্যাডার বাহিনীর মত আনছার সদস্য। এখন হাসপাতালটিতে সাংবাদিক নাম শুনলে প্রবেশাধিকার নিষেধ।
যেখানে স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য সবচেয়ে নিরাপদ স্থান হাসপাতাল বা চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র। সেখানে মানুষের পরিবর্তে কুকুরের বসবাস শুরু হয়েছে। কারন আনছার বাহিনী কুকুর নয় সাংবাদিক দেখা নিয়ে ব্যস্ত, কুকুর প্রবেশ করলেও ভিতরে যেন কোন ভাবেই কোন সাংবাদিক প্রবেশ করতে না পারে এবং এই ঐতিহাসিক হাসপাতালের দুর্নীতির খবর প্রকাশ করতে না পারে!!! তাহলে ভাবতেই হচ্ছে হাসপাতালটিতে চিকিৎসা সেবা কি হতে পারে? আমি নিজেও বহুবার এই আনসার বাহিনীর শিকার হয়েছি এবং সরেজমিন বিষয়গুলো উপলব্ধি করেছি। তাই সামান্য একটি ঘটনা তুলে ধরলাম। তারিখ সেপ্টেম্বর ২৭, সোমবার একটি বাচ্চা রোড এক্সিডেন্ট করলে সেই বাচ্চাটিকে উদ্ধার করে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করতে ছুটে এসেছেন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মহিদুল ইসলাম মোস্তফা। এরপর চিকিৎসা ব্যবস্থার জন্য হাসপাতালের নিয়ম অনুস্বরন করা হয়। সেখান থেকে ১ নাম্বার ওয়ার্ডে পাঠানো হয়। কারন বাচ্চাটির পাঁ ভেঙেছে। ১ নং ওয়ার্ডে ঢুকতেই কয়েকটি কুকুরের বাঁধায় পড়লাম, কারন কুকুরগুলো গেট ঘিরে শুয়ে রয়েছে। আগপিছ না তাকিয়ে কুকুরগুলোকে সরিয়ে ওয়ার্ডের ভিতরে গেলে দ্বায়িত্বরত নার্স বলেন, আপনারা ৩১ নং ওয়ার্ডে যান। ৩১ নং ওয়ার্ডে গেলে সেখানে দ্বায়িত্বরত ডাঃ চিকিৎসা না করে তিনি বলেন ভর্তির কাগজপত্র দেন। মোস্তফা বলেন ভাই কাগজ নিয়ে আসছে, আপনি বাচ্চাটাকে দেখেন। ডাঃ এর উত্তর কাগজ ছাড়া আমি বাচ্চাকে দেখবো না। নিরুপায় হয়ে কগজের জন্য প্রায় আধাঘন্টা অপেক্ষা করে বাচ্চাটির চিকিৎসা শুরু করে। এরই মধ্যে খবর পেয়ে বাচ্চাটির মা সহ আত্নীয় স্বজন ছুটে এসেছে। বাচ্চার মা এর সাথে কথা বলে সকল ঘটনা জানা যায়, বাচ্চার নাম নুসরাত জাহান রিয়া (৮) পিতা- সাকিল আহমেদ, সাং বিনোদপুর (মির্জাপুর)। বাচ্চাটি মির্জাপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেনীর ১ম স্থান অধিকারি কৃতীছাত্রী। এরই মধ্যে মোস্তফা খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পারে বাচ্চার পরিবার খুব গরীর। তাই বাচ্চাটির সকল চিকিৎসা ব্যয়ভার মোস্তফাই বহন করেন। এরপর আমি সেখান থেকে চলে আসি। পরে জানতে পারি পরবর্তী চিকিৎসার জন্য নগদ ৫০০০ টাকাও দিয়েছে, যেন চিকিৎসার কোন ত্রুটি না হয়। মোস্তফা শুধু টাকা দিয়ে সহযোগিতা করেননি তিনি হাসপাতাল পরিচালককে ফোন করে রিকোয়েস্ট করেন যেন এই গরীব অসহায় বাচ্চাটিকে একটু গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসা করেন। আমি সত্যিই অবাক হয়েছি যে, এখনো এই রকম মানুষ আছে? যে কিনা নিজের গুরুত্বপূর্ণ কাজ উপেক্ষা করে অজানা, অচেনা, গরীব বাচ্চাকে বাঁচাতে বুকে তুলে জড়িয়ে নিয়ে হাসপাতালে ছুটলেন? সত্যিই মোস্তফার এই মহানুভবতা ও মানবিকতা দেখে প্রশংসা না করে পারছিনা। এই রকম অসংখ্য নজির রয়েছে এই হাসপাতালের চিকিৎসা কেন্দ্রিক। তবে হাসপাতালটিতে কুকুরের আবাসন দেখে দুরদুরান্ত থেকে ছুটে আসা চিকিৎসা প্রত্যাশী, সুশীল সমাজ ও সচেতন নাগরিকদের চরম ভাবিয়ে তুলেছে হাসপাতালে কি হচ্ছে? পরবর্তীতে বিষয়টি নিয় হাসপাতাল পরিচালকের সাথে যোগাযোগ করে ব্যর্থ হয়েছি। তাই স্বাস্থ্য বিভাগের উর্ধ্বস্তর মহলে প্রতি সকলে আকুতি, দ্রুত পরিবেশ বান্ধব চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করে হাসপাতালের দুর্নীতি ও অনিয়ম দুর করবে।

শর্টলিংকঃ