রোনালদোকে মেসির মুখোমুখি হতেই দিচ্ছে না করোনা

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এখন আর রিয়াল মাদ্রিদে নেই। স্প্যানিশ লিগ ছেড়ে যোগ দিয়েছেন ইতালিয়ান লিগে, গায়ে শোভা পায় জুভেন্টাসের সাদাকালো ডোরাকাটা জার্সি। লিওনেল মেসির সঙ্গে তাঁর দ্বৈরথও এখন আর নিয়মিত দেখা যায় না। তাই ১ অক্টোবর চ্যাম্পিয়নস লিগ ড্রয়ে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য সবচেয়ে বড় সুখবর ছিল—মেসির বার্সা আর রোনালদোর জুভেন্টাস একই গ্রুপে।

দুজনের বয়সও বেড়েছে, আবার কবে মেসি-রোনালদোকে একই সময়ে একই মাঠে দেখা যাবে, কে জানে! ফুটবলপ্রেমীরা তাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন তাঁদের দ্বৈরথ দেখার। কিন্তু তাঁদের অপেক্ষায় জল ঢেলে রেখেছে করোনাভাইরাস।

পর্তুগালের হয়ে খেলতে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত হন রোনালদো। ইউরোপিয়ান নেশনস কাপের ম্যাচে ফ্রান্সের মুখোমুখি হয়েছিল রোনালদোর পর্তুগাল। গোলশূন্য ড্র হওয়া ম্যাচটি শেষে করোনা পরীক্ষায় রোনালদোর শরীরে ভাইরাসটির অস্তিত্ব ধরা পড়ে। তখনই শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছিল বার্সার বিপক্ষে জুভেন্টাসের ম্যাচে রোনালদোর খেলা নিয়ে। তাও হালকা আশা ছিল যে রোনালদো হয়তো ম্যাচটা খেলতে পারবেন। সবশেষ পাওয়া এক খবরে সে আশার বেলুনটাও ফুটো হওয়ার জোগাড়। জানা গেছে, আবারও করোনা পরীক্ষায় পজিটিভ হয়েছেন রোনালদো।

উয়েফার নিয়ম অনুযায়ী, চ্যাম্পিয়নস লিগ বা ইউরোপা লিগের ম্যাচে খেলতে হলে একজন খেলোয়াড়কে ম্যাচের ৭ দিন আগে করোনা নেগেটিভ প্রমাণিত হতে হয়। সে ক্ষেত্রে রোনালদো যদি বার্সেলোনার বিপক্ষে ২৮ তারিখে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ম্যাচটা খেলতে চান, তাঁকে করোনা নেগেটিভ প্রমাণিত হতে হতো ২১ অক্টোবরের মধ্যে। ১৩ অক্টোবর করোনা পজিটিভ হওয়া রোনালদোর শরীরে ৮ দিনের মধ্যেই ভাইরাসের উপস্থিতি যে আর থাকবে না, এমনটা হওয়ার সম্ভাবনা কার্যত নেই—সেটা আগেই অনুমান করা হয়েছিল। দ্বিতীয় করোনা পরীক্ষা সে সন্দেহকে বাস্তবতায় রূপান্তরিত করেছে শুধু।

তবে আশা যে একদমই নেই, সেটা বলা যাচ্ছে না। ম্যাচের ৪৮ ঘণ্টা আগে উয়েফার অনুমতি সাপেক্ষে রোনালদো আরেকবার করোনা পরীক্ষা করাবেন বলে জানা গেছে। যদি নেগেটিভ হন, তাহলে আর খেলতে সমস্যা হবে না পর্তুগিজ এই তারকার। তবে সেটা হওয়ার সম্ভাবনা সামান্যই। তাই ফুটবলপ্রেমীদের হয়তো হতাশই হতে হচ্ছে। আরেকবার মাঠে মেসি-রোনালদো দ্বৈরথ দেখার রোমাঞ্চটা বোধ হয় চেপেই রাখতে হচ্ছে আপাতত।

রোনালদো যদি এই ম্যাচ খেলতে না পারেন, তবে তাঁর লক্ষ্য থাকবে দুই দলের দ্বিতীয় মুখোমুখিতে। তবে তত দিনে হয়তো পরের রাউন্ডে ওঠা নিশ্চিত হয়ে যাবে দল দুটির। আর সেটা হয়ে গেলে ম্যাচের গুরুত্ব ঠিক এখনকার মতো থাকবে না। দুই বছর আগে রোনালদো রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে জুভেন্টাসে যাওয়ার পর মেসি-রোনালদো দ্বৈরথের দেখা আর মেলেনি।

পর্তুগিজ তারকা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে থাকার দিনগুলোতে মেসি-রোনালদোর মধ্যে তিনবার দেখা হয়েছিল চ্যাম্পিয়নস লিগে। কিন্তু ২০০৯ সালে রোনালদো ইউনাইটেড ছেড়ে রিয়ালে আসার পর তাঁদের দ্বৈরথ অন্য উচ্চতায় চলে গিয়েছিল।

রোনালদো স্পেনে যত দিন ছিলেন, লিগে তো অন্তত দুবার দেখা হতোই, চ্যাম্পিয়নস লিগেও রোনালদো-মেসির দেখা হয়েছিল একবার—২০১১ চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালে। এর বাইরে কোপা দেল রে, স্প্যানিশ সুপারকোপাতে রিয়াল-বার্সার দেখা হতো মোটামুটি নিয়মিত। এত দিন পর জুভেন্টাস-বার্সার সৌজন্যে মেসি-রোনালদোর সে দ্বৈরথ দেখার সম্ভাবনা জেগেছিল, সেখানেও বাধ সাধল করোনা!

শর্টলিংকঃ